৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৪:৫৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর সাবেক গণভবনে নির্মিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আগামীকাল (৫ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধনের পর তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখবেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের বিভিন্ন স্মারক সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘর ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। উদ্বোধনের দিন এটি শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য খোলা থাকবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি, আলোকচিত্র, তথ্যচিত্র এবং সংরক্ষিত নিদর্শন পরিদর্শন করবেন। অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
জাদুঘরটিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকচিত্র, ভিডিও, দলিল, ব্যক্তিগত স্মারক, ব্যবহৃত সামগ্রী এবং আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা ঐতিহাসিক উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া শহীদদের জীবন, আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ এবং গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তুলে ধরতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা এবং শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। নতুন প্রজন্ম যাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, ঘটনাপ্রবাহ এবং আত্মত্যাগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
যেভাবে তৈরি হলো জাদুঘর
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভবনকে জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এ লক্ষ্যে আইনগত কাঠামো প্রণয়ন এবং জাদুঘর পরিচালনার জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়। অধ্যাদেশে জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, দলিল, আলোকচিত্র, ভিডিও, নিদর্শন সংরক্ষণ, গবেষণা এবং জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
জাদুঘর নির্মাণের জন্য গণভবনের মূল স্থাপত্য অক্ষুণ্ন রেখে ভবনের বিভিন্ন অংশ সংস্কার করা হয়েছে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে প্রচলিত দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যাতে ৫ আগস্টের আগেই জাদুঘরটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা যায়।
কী থাকছে জাদুঘরে
জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদদের জীবন ও আত্মত্যাগ, আন্দোলনের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, ব্যক্তিগত স্মারক, আন্দোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দলিল। পাশাপাশি ডিজিটাল ডিসপ্লে, মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা ও গবেষণার জন্য পৃথক আর্কাইভেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে শাখা জাদুঘর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও অধ্যাদেশে রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি শুধু একটি স্মৃতি সংরক্ষণাগার নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি গবেষণা, শিক্ষা ও জাতীয় স্মৃতিচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে।









