হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা: মামলা দায়ের পরবর্তী প্রেস ব্রিফিং
- আপডেট সময় ১১:৩৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / ৪৮ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন দলের আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা চলাকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে, যাতে সাংবাদিক ও এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন এবং সাংবাদিকদের ব্যবহৃত গাড়িও ভাঙচুরের শিকার হয়। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পদযাত্রা শেষে ছাত্রদলের নেতারা বিক্ষোভ শুরু করলে উত্তেজনা তৈরি হয়, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এনসিপি নেতাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে পৌঁছে দেয়।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে অভিযোগ দায়ের করতে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের পথে রওনা হন এনসিপির শীর্ষ নেতারা, কিন্তু শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ প্রথম দফায় তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়; প্রায় আধা ঘণ্টা পর বাধা অতিক্রম করে তারা পুনরায় যাত্রা শুরু করেন। এরপর হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ফের তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়, যেখানে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপির শীর্ষ নেতারা রাস্তায় অবস্থান নেন।
শুরুতে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে অনীহা দেখালেও নেতাকর্মীদের অনড় অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত তা গ্রহণ করা হয়। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে সদর থানা বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ গ্রহণ করেন।
পরে রাতে জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১০০ জনের বিরুদ্ধে বাহুবল থানায় মামলা করেন।
অভিযোগ দায়েরের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নাহিদ ইসলাম বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পুরোনো স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থারই পথ অনুসরণ করছে—অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় থেকে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং গণভোটের রায় ও স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের দাবি উপেক্ষা করে সন্ত্রাসনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চাইছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনের এই সময়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের দাবিতে কথা বলার মধ্যেই তাদের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে এক কিশোরের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পূর্ববর্তী সরকারও শত শত মানুষের চোখ কেড়ে নিয়েছিল, আর বর্তমান সরকারও একই পথ অনুসরণ করছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, যিনি এলাকায় দল নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি নিজেই সন্ত্রাসী বাহিনী পালন-পোষণ করছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন। মামলা গ্রহণের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে দলের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুর গায়ে হাত তোলারও অভিযোগ তোলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের কর্মীরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন এবং এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেই তাদের মূল লড়াই। পুলিশ যদি নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে চায়, তবে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন—অন্যথায় ধরে নেওয়া হবে দেশ ফের মাফিয়াতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ দায়ের ও প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন—এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। এছাড়া দলের ছাত্র সংগঠনের নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মামলা দায়েরের পর প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে নেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যজোট হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের পুলিশি হেনস্তার নিন্দা জানিয়েছে।









