বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ গ্রহণ করেছেন
- আপডেট সময় ০৮:২৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৬ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন প্রবীণ রাজনীতিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করলেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট প্রদান করেন। ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছরে এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থীর মধ্যে ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি মির্জা ফখরুলকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়। নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের অবসান ঘটে।
দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন, কারাবরণ, সংসদীয় রাজনীতি ও মন্ত্রিসভার দায়িত্ব—সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ছিলেন মির্জা ফখরুল। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলটির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তার অভিষেক বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার দীর্ঘ পথচলার একটি নতুন অধ্যায়।
সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার কালীবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক।
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে তিনি ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।
স্বাধীনতার পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতি পড়িয়েছেন। সরকারি চাকরিজীবনে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারির একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।
২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপি সরকারের সময় প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১১ সালে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয় এবং ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ সময় তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে আবারও নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। একই বছরের আগস্টে বিএনপির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন এবং ২১ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।








