ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবরার ফাহাদ: সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এক প্রতিবাদী কণ্ঠ, ৭ অক্টোবরের সাত বছর

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা, ৭ অক্টোবর ২০২৬

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাঙ্গনের ইতিহাসে দিনটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্মারক হয়ে আছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে তাঁর আবাসিক হলে নির্যাতনের পর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মাত্র ২১ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যু পরবর্তী সময়ে কেবল একটি ফৌজদারি হত্যাকাণ্ডের বিচারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ঘটনাটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতা, নাগরিক নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দীর্ঘস্থায়ী আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাত বছর পরও আবরার ফাহাদের নাম বাংলাদেশের জনপরিসরে উচ্চারিত হচ্ছে। রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তাঁর নামে নামকরণ হয়েছে, নিজ গ্রামে তাঁর নামে নির্মিত হয়েছে মসজিদ ও মাদ্রাসা, স্থাপন করা হয়েছে স্মারক। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে তাঁকে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে প্রতিবাদী কণ্ঠের প্রতীক হিসেবেও স্মরণ করা হচ্ছে।

৬ অক্টোবরের রাত, ৭ অক্টোবরের মৃত্যু

আবরার ফাহাদ ছিলেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে তাঁকে হলের একটি কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন ৭ অক্টোবর ভোরে শেরেবাংলা হলের সিঁড়িতে তাঁর নিথর দেহ পাওয়া যায়।

ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী তদন্তে তাঁর শরীরে গুরুতর আঘাতের তথ্য উঠে আসে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।

আবরারের মরদেহ পরে তাঁর গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনে রায়ডাঙ্গায় তাঁর জানাজায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির কথা উঠে আসে।

যে লেখার পর শুরু হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদ

হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে, ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর, আবরার ফাহাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন।

তাঁর লেখায় ফেনী নদীর পানি, বন্দর, জ্বালানি এবং দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয় উঠে আসে। পরবর্তী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রসঙ্গ সামনে আসে।

আবরারের বক্তব্যের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে মতভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর যে মৌলিক প্রশ্নটি সামনে আসে, তা ছিল আরও গভীর—একজন নাগরিক বা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাষ্ট্রীয় নীতি, আন্তর্জাতিক চুক্তি কিংবা জাতীয় স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাঁর নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার কতটা সুরক্ষিত?

হত্যাকাণ্ডের অভিঘাত এবং বুয়েটে পরিবর্তন

আবরার হত্যার সংবাদ প্রকাশের পর বুয়েটের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। তাঁদের দাবির মধ্যে ছিল হত্যাকারীদের বিচার, আবাসিক হলে নির্যাতন বন্ধ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের নামে সহিংসতার অবসান।

তীব্র ছাত্র আন্দোলনের পর বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে।

একই সঙ্গে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হলগুলোতে প্রচলিত তথাকথিত ‘গেস্টরুম সংস্কৃতি’, র‍্যাগিং, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে জাতীয় আলোচনা শুরু হয়।

আবরারের মৃত্যু তাই একজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ছাড়িয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতার প্রয়োগ ও জবাবদিহির প্রশ্নেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

বিচারপ্রক্রিয়া

আবরার হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

পরবর্তী সময়ে মামলাটি হাইকোর্টে যায়। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত করেন।

তবে ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মামলাটির সব আইনি ধাপ সম্পন্ন হয়নি; দণ্ডিত কয়েকজনের আপিল সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

স্মৃতির মানচিত্রে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ’

আবরার ফাহাদের স্মৃতিকে রাষ্ট্রীয় ও নগর পরিসরে স্থায়ীভাবে ধারণের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন রাজধানীর গুলিস্তান-পল্টন এলাকার তৎকালীন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ’ নামকরণ করে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আবরারের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সড়কটির নাম তাঁর নামে করার দাবি তোলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তন করা হয়।

বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাতেও ‘শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ’ নামটির ব্যবহার দেখা যায়।

এই নামকরণ আবরারকে ঘিরে গড়ে ওঠা সামাজিক স্মৃতির একটি দৃশ্যমান নিদর্শন। তবে যেকোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা বা সড়কের পুনর্নামকরণের মতো এ বিষয়টির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মূল্যায়ন বিভিন্ন পক্ষের কাছে ভিন্ন হতে পারে।

নিজ গ্রামে আবরারের নামে মসজিদ ও মাদ্রাসা

আবরার ফাহাদের স্মৃতি শুধু রাজধানীর সড়ক কিংবা নগর স্মারকে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর নিজ গ্রাম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায় তাঁর নামে একটি জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা’র নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। যে স্থানে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেখানে ২০১৯ সাল থেকেই নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেওয়া হচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে সেটিকে আবরার ফাহাদের নামে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ ও মাদ্রাসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০২৫ সালের মার্চে মসজিদটির উদ্বোধনসংক্রান্ত সংবাদও প্রকাশিত হয়। কুষ্টিয়ায় আয়োজিত সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের উপস্থিতির খবর প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম।

আবরারের নিজ গ্রামে তাঁর নামে নির্মিত এই ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান তাঁর স্মৃতিকে স্থানীয় জনজীবনের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত করেছে। যেখানে তাঁর শৈশব ও পারিবারিক শিকড়, সেই রায়ডাঙ্গায় মসজিদ-মাদ্রাসাটি এখন তাঁর স্মৃতিবাহী স্থাপনাগুলোর একটি।

এই গ্রামের মাটিতেই ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর তাঁর শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

‘আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভ’ এবং স্মৃতি নির্মাণ

আবরার ফাহাদের স্মরণে রাজধানীর পলাশী এলাকায় ‘আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভ’ নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়।

এই স্মারকে সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, জননিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদাসহ বিভিন্ন বিষয় প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ফলে আবরারের স্মৃতি এখন একাধিক ভৌগোলিক পরিসরে দৃশ্যমান—বুয়েটের সেই শেরেবাংলা হল, রায়ডাঙ্গায় তাঁর কবর ও তাঁর নামে নির্মিত মসজিদ-মাদ্রাসা, পলাশীর স্মারক এবং রাজধানীর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ’।

কেন তাঁকে সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা হয়

আবরারের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকারের আলোচনায় তাঁর নাম ক্রমশ প্রতীকী হয়ে ওঠে।

তাঁর শেষ দিকের লেখায় নদীর পানি, প্রাকৃতিক সম্পদ, বন্দর ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয় উঠে এসেছিল। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক পরিসরে তাঁকে ‘সার্বভৌমত্বের প্রতীক’ বা ‘আধিপত্যবিরোধী প্রতিবাদের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই অভিধাগুলো মূলত সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন; এগুলোকে তাঁর হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত বিচারিক সত্যের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।

বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত মূল বিষয় হলো—একজন তরুণ শিক্ষার্থীকে আবাসিক হলে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং সেই নির্যাতনের ফলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।

অন্যদিকে, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রতীকী অবস্থান বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, নাগরিক স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক আলোচনার অংশ।

সার্বভৌমত্বের অর্থ শুধু ভূখণ্ড নয়

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অর্থে সার্বভৌমত্ব প্রথমত একটি রাষ্ট্রের নিজ ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

কিন্তু একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থায় এর সঙ্গে নাগরিক অধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের নিরাপদ পরিবেশও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেওয়া গণতান্ত্রিক আলোচনার স্বাভাবিক অংশ। মতের জবাব মত দিয়ে দেওয়া যায়; যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু ভিন্নমতের জবাবে শারীরিক নিপীড়ন গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড এই সত্যটিকেই অত্যন্ত নির্মমভাবে সামনে এনেছিল।

সাত বছর পর

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর—সাত বছর পেরিয়ে গেছে।

এই সময়ের মধ্যে আবরার হত্যার বিচার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আদালত অতিক্রম করেছে। তাঁর নামে রাজধানীতে সড়ক হয়েছে। নিজ গ্রামে নির্মিত হয়েছে মসজিদ ও মাদ্রাসা। গড়ে উঠেছে স্মারক। প্রতিবছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা সংগঠন তাঁকে স্মরণ করছে।

তবুও যে প্রশ্নগুলো তাঁর মৃত্যুর পর উঠেছিল, সেগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ—বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থী কতটা নিরাপদ, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার কীভাবে প্রতিরোধ করা যাবে, ভিন্নমতের অধিকার কতটা সুরক্ষিত এবং জাতীয় স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে একজন নাগরিক কতটা ভয়মুক্ত?

আবরার ফাহাদের জীবন থেমে গিয়েছিল খুব অল্প বয়সে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে জন্ম নেওয়া এসব প্রশ্ন বাংলাদেশের সমাজ, রাষ্ট্র ও শিক্ষাঙ্গনের জন্য এখনো প্রাসঙ্গিক।

৭ অক্টোবর তাই শুধু একজন তরুণ শিক্ষার্থীর মৃত্যুবার্ষিকী নয়। দিনটি একই সঙ্গে বিচার, নাগরিক মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ফিরে তাকানোর একটি দিন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আবরার ফাহাদ: সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এক প্রতিবাদী কণ্ঠ, ৭ অক্টোবরের সাত বছর

আপডেট সময় ০৫:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা, ৭ অক্টোবর ২০২৬

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাঙ্গনের ইতিহাসে দিনটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্মারক হয়ে আছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে তাঁর আবাসিক হলে নির্যাতনের পর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মাত্র ২১ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যু পরবর্তী সময়ে কেবল একটি ফৌজদারি হত্যাকাণ্ডের বিচারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ঘটনাটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতা, নাগরিক নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দীর্ঘস্থায়ী আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাত বছর পরও আবরার ফাহাদের নাম বাংলাদেশের জনপরিসরে উচ্চারিত হচ্ছে। রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তাঁর নামে নামকরণ হয়েছে, নিজ গ্রামে তাঁর নামে নির্মিত হয়েছে মসজিদ ও মাদ্রাসা, স্থাপন করা হয়েছে স্মারক। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে তাঁকে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে প্রতিবাদী কণ্ঠের প্রতীক হিসেবেও স্মরণ করা হচ্ছে।

৬ অক্টোবরের রাত, ৭ অক্টোবরের মৃত্যু

আবরার ফাহাদ ছিলেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে তাঁকে হলের একটি কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন ৭ অক্টোবর ভোরে শেরেবাংলা হলের সিঁড়িতে তাঁর নিথর দেহ পাওয়া যায়।

ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী তদন্তে তাঁর শরীরে গুরুতর আঘাতের তথ্য উঠে আসে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।

আবরারের মরদেহ পরে তাঁর গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনে রায়ডাঙ্গায় তাঁর জানাজায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির কথা উঠে আসে।

যে লেখার পর শুরু হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদ

হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে, ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর, আবরার ফাহাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন।

তাঁর লেখায় ফেনী নদীর পানি, বন্দর, জ্বালানি এবং দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয় উঠে আসে। পরবর্তী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রসঙ্গ সামনে আসে।

আবরারের বক্তব্যের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে মতভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর যে মৌলিক প্রশ্নটি সামনে আসে, তা ছিল আরও গভীর—একজন নাগরিক বা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাষ্ট্রীয় নীতি, আন্তর্জাতিক চুক্তি কিংবা জাতীয় স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাঁর নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার কতটা সুরক্ষিত?

হত্যাকাণ্ডের অভিঘাত এবং বুয়েটে পরিবর্তন

আবরার হত্যার সংবাদ প্রকাশের পর বুয়েটের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। তাঁদের দাবির মধ্যে ছিল হত্যাকারীদের বিচার, আবাসিক হলে নির্যাতন বন্ধ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের নামে সহিংসতার অবসান।

তীব্র ছাত্র আন্দোলনের পর বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে।

একই সঙ্গে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হলগুলোতে প্রচলিত তথাকথিত ‘গেস্টরুম সংস্কৃতি’, র‍্যাগিং, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে জাতীয় আলোচনা শুরু হয়।

আবরারের মৃত্যু তাই একজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ছাড়িয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতার প্রয়োগ ও জবাবদিহির প্রশ্নেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

বিচারপ্রক্রিয়া

আবরার হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

পরবর্তী সময়ে মামলাটি হাইকোর্টে যায়। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত করেন।

তবে ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মামলাটির সব আইনি ধাপ সম্পন্ন হয়নি; দণ্ডিত কয়েকজনের আপিল সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

স্মৃতির মানচিত্রে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ’

আবরার ফাহাদের স্মৃতিকে রাষ্ট্রীয় ও নগর পরিসরে স্থায়ীভাবে ধারণের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন রাজধানীর গুলিস্তান-পল্টন এলাকার তৎকালীন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ’ নামকরণ করে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আবরারের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সড়কটির নাম তাঁর নামে করার দাবি তোলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তন করা হয়।

বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাতেও ‘শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ’ নামটির ব্যবহার দেখা যায়।

এই নামকরণ আবরারকে ঘিরে গড়ে ওঠা সামাজিক স্মৃতির একটি দৃশ্যমান নিদর্শন। তবে যেকোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা বা সড়কের পুনর্নামকরণের মতো এ বিষয়টির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মূল্যায়ন বিভিন্ন পক্ষের কাছে ভিন্ন হতে পারে।

নিজ গ্রামে আবরারের নামে মসজিদ ও মাদ্রাসা

আবরার ফাহাদের স্মৃতি শুধু রাজধানীর সড়ক কিংবা নগর স্মারকে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর নিজ গ্রাম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায় তাঁর নামে একটি জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা’র নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। যে স্থানে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেখানে ২০১৯ সাল থেকেই নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেওয়া হচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে সেটিকে আবরার ফাহাদের নামে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ ও মাদ্রাসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০২৫ সালের মার্চে মসজিদটির উদ্বোধনসংক্রান্ত সংবাদও প্রকাশিত হয়। কুষ্টিয়ায় আয়োজিত সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের উপস্থিতির খবর প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম।

আবরারের নিজ গ্রামে তাঁর নামে নির্মিত এই ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান তাঁর স্মৃতিকে স্থানীয় জনজীবনের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত করেছে। যেখানে তাঁর শৈশব ও পারিবারিক শিকড়, সেই রায়ডাঙ্গায় মসজিদ-মাদ্রাসাটি এখন তাঁর স্মৃতিবাহী স্থাপনাগুলোর একটি।

এই গ্রামের মাটিতেই ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর তাঁর শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

‘আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভ’ এবং স্মৃতি নির্মাণ

আবরার ফাহাদের স্মরণে রাজধানীর পলাশী এলাকায় ‘আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভ’ নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়।

এই স্মারকে সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, জননিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদাসহ বিভিন্ন বিষয় প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ফলে আবরারের স্মৃতি এখন একাধিক ভৌগোলিক পরিসরে দৃশ্যমান—বুয়েটের সেই শেরেবাংলা হল, রায়ডাঙ্গায় তাঁর কবর ও তাঁর নামে নির্মিত মসজিদ-মাদ্রাসা, পলাশীর স্মারক এবং রাজধানীর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ’।

কেন তাঁকে সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা হয়

আবরারের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকারের আলোচনায় তাঁর নাম ক্রমশ প্রতীকী হয়ে ওঠে।

তাঁর শেষ দিকের লেখায় নদীর পানি, প্রাকৃতিক সম্পদ, বন্দর ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয় উঠে এসেছিল। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক পরিসরে তাঁকে ‘সার্বভৌমত্বের প্রতীক’ বা ‘আধিপত্যবিরোধী প্রতিবাদের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই অভিধাগুলো মূলত সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন; এগুলোকে তাঁর হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত বিচারিক সত্যের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।

বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত মূল বিষয় হলো—একজন তরুণ শিক্ষার্থীকে আবাসিক হলে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং সেই নির্যাতনের ফলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।

অন্যদিকে, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রতীকী অবস্থান বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, নাগরিক স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক আলোচনার অংশ।

সার্বভৌমত্বের অর্থ শুধু ভূখণ্ড নয়

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অর্থে সার্বভৌমত্ব প্রথমত একটি রাষ্ট্রের নিজ ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

কিন্তু একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থায় এর সঙ্গে নাগরিক অধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের নিরাপদ পরিবেশও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেওয়া গণতান্ত্রিক আলোচনার স্বাভাবিক অংশ। মতের জবাব মত দিয়ে দেওয়া যায়; যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু ভিন্নমতের জবাবে শারীরিক নিপীড়ন গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড এই সত্যটিকেই অত্যন্ত নির্মমভাবে সামনে এনেছিল।

সাত বছর পর

২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর—সাত বছর পেরিয়ে গেছে।

এই সময়ের মধ্যে আবরার হত্যার বিচার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আদালত অতিক্রম করেছে। তাঁর নামে রাজধানীতে সড়ক হয়েছে। নিজ গ্রামে নির্মিত হয়েছে মসজিদ ও মাদ্রাসা। গড়ে উঠেছে স্মারক। প্রতিবছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা সংগঠন তাঁকে স্মরণ করছে।

তবুও যে প্রশ্নগুলো তাঁর মৃত্যুর পর উঠেছিল, সেগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ—বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থী কতটা নিরাপদ, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার কীভাবে প্রতিরোধ করা যাবে, ভিন্নমতের অধিকার কতটা সুরক্ষিত এবং জাতীয় স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে একজন নাগরিক কতটা ভয়মুক্ত?

আবরার ফাহাদের জীবন থেমে গিয়েছিল খুব অল্প বয়সে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে জন্ম নেওয়া এসব প্রশ্ন বাংলাদেশের সমাজ, রাষ্ট্র ও শিক্ষাঙ্গনের জন্য এখনো প্রাসঙ্গিক।

৭ অক্টোবর তাই শুধু একজন তরুণ শিক্ষার্থীর মৃত্যুবার্ষিকী নয়। দিনটি একই সঙ্গে বিচার, নাগরিক মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ফিরে তাকানোর একটি দিন।