ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জান দেবো, জুলাই দেবো না

শরীফ ওসমান বিন হাদি বা ওসমান হাদি

হাবীব শাহীন
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ওসমান হাদি

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত পাবলিক পার্লামেন্ট কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখছেন ওসমান হাদি।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র
কাজের মেয়াদ
১৩ আগস্ট ২০২৪ – ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের
পূর্বসূরী পদ প্রতিষ্ঠিত
উত্তরসূরী ঘোষণা করা হবে
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম ওসমান গনি
৩০ জুন ১৯৯৩[]
নলছিটিঝালকাঠি জেলা, বাংলাদেশ
মৃত্যু ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ (বয়স ৩২)
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল, সিঙ্গাপুর
মৃত্যুর কারণ হত্যাকাণ্ড (গুলিবিদ্ধ)
সমাধিস্থল কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ, ঢাকা
জাতীয়তা বাংলাদেশী
দাম্পত্য সঙ্গী রাবেয়া ইসলাম সম্পা[]
সন্তান ফিরনাস বিন ওসমান[]
প্রাক্তন শিক্ষার্থী
পেশা রাজনৈতিক কর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক এবং শিক্ষক
যে জন্য পরিচিত

শরীফ ওসমান বিন হাদি বা ওসমান হাদি (৩০ জুন ১৯৯৩ – ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫)[] ছিলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক ও শিক্ষক, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত।[][] তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। হাদি জুলাই শহিদদের অধিকার রক্ষা ও আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা আন্দোলন এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সক্রিয় রাজনীতির জন্য আলোচনায় আসেন।[][][]

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন[] এবং ১৮ ডিসেম্বর রাত ০৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।[১০]

প্রাথমিক জীবন

ওসমান হাদি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার এক বাঙালি মুসলিম পরিবারে ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শরীফ আব্দুল হাদি, যিনি একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয় ইমাম ছিলেন। ৬ ভাইবোনের (৩ ভাই, ৩ বোন) মধ্যে হাদি সর্বকনিষ্ঠ।[১১] হাদির বড় ভাইয়ের নাম আবু বকর সিদ্দিক ও মেজো ভাইয়ের নাম ওমর ফারুক। হাদি তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু করেন নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায়, সেখান থেকে তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। চতুর্থ শ্রেণিতে তিনি ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন, সেখানে তিনি আলিম (এইচএসসি) সম্পন্ন করে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।[১২]

হাদি ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স নামক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতা করতেন।[১৩][১২]

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড

হাদি ঢাকার রামপুরা এলাকায় বসবাস করতে শুরু করেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি রামপুরা এলাকার সমন্বয়ক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে হওয়া আন্দোলনে হাদিকে অন্যতম তরুণ নেতৃত্বদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[১৪]

ইনকিলাব মঞ্চ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার অভিজ্ঞতা ও দাবির ভিত্তিতে গঠিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ শরিফ ওসমান হাদির হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়।[] সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো সমস্ত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং “ইনসাফভিত্তিক” একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন, যেখানে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও ন্যায়বিচার প্রধান মূল্যবোধ হিসেবে থাকবে।[]

ইনকিলাব মঞ্চ গঠনের পর জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষা, অপরাধীদের বিচার, আহত-নিহত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি এবং জুলাই চার্টার ঘোষণার দাবি তুলেন হাদি। যা তাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জান দেবো, জুলাই দেবো না

শরীফ ওসমান বিন হাদি বা ওসমান হাদি

আপডেট সময় ১১:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ওসমান হাদি

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত পাবলিক পার্লামেন্ট কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখছেন ওসমান হাদি।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র
কাজের মেয়াদ
১৩ আগস্ট ২০২৪ – ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের
পূর্বসূরী পদ প্রতিষ্ঠিত
উত্তরসূরী ঘোষণা করা হবে
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম ওসমান গনি
৩০ জুন ১৯৯৩[]
নলছিটিঝালকাঠি জেলা, বাংলাদেশ
মৃত্যু ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ (বয়স ৩২)
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল, সিঙ্গাপুর
মৃত্যুর কারণ হত্যাকাণ্ড (গুলিবিদ্ধ)
সমাধিস্থল কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ, ঢাকা
জাতীয়তা বাংলাদেশী
দাম্পত্য সঙ্গী রাবেয়া ইসলাম সম্পা[]
সন্তান ফিরনাস বিন ওসমান[]
প্রাক্তন শিক্ষার্থী
পেশা রাজনৈতিক কর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক এবং শিক্ষক
যে জন্য পরিচিত

শরীফ ওসমান বিন হাদি বা ওসমান হাদি (৩০ জুন ১৯৯৩ – ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫)[] ছিলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক ও শিক্ষক, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত।[][] তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। হাদি জুলাই শহিদদের অধিকার রক্ষা ও আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা আন্দোলন এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সক্রিয় রাজনীতির জন্য আলোচনায় আসেন।[][][]

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন[] এবং ১৮ ডিসেম্বর রাত ০৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।[১০]

প্রাথমিক জীবন

ওসমান হাদি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার এক বাঙালি মুসলিম পরিবারে ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শরীফ আব্দুল হাদি, যিনি একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয় ইমাম ছিলেন। ৬ ভাইবোনের (৩ ভাই, ৩ বোন) মধ্যে হাদি সর্বকনিষ্ঠ।[১১] হাদির বড় ভাইয়ের নাম আবু বকর সিদ্দিক ও মেজো ভাইয়ের নাম ওমর ফারুক। হাদি তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু করেন নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায়, সেখান থেকে তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। চতুর্থ শ্রেণিতে তিনি ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন, সেখানে তিনি আলিম (এইচএসসি) সম্পন্ন করে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।[১২]

হাদি ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স নামক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতা করতেন।[১৩][১২]

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড

হাদি ঢাকার রামপুরা এলাকায় বসবাস করতে শুরু করেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি রামপুরা এলাকার সমন্বয়ক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে হওয়া আন্দোলনে হাদিকে অন্যতম তরুণ নেতৃত্বদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[১৪]

ইনকিলাব মঞ্চ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার অভিজ্ঞতা ও দাবির ভিত্তিতে গঠিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ শরিফ ওসমান হাদির হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়।[] সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো সমস্ত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং “ইনসাফভিত্তিক” একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন, যেখানে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও ন্যায়বিচার প্রধান মূল্যবোধ হিসেবে থাকবে।[]

ইনকিলাব মঞ্চ গঠনের পর জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষা, অপরাধীদের বিচার, আহত-নিহত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি এবং জুলাই চার্টার ঘোষণার দাবি তুলেন হাদি। যা তাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।